আসমানে মেঘ দেখলেই কৃষকের মনে শঙ্কা
- আপলোড সময় : ১৫-০৪-২০২৬ ১১:৫০:০৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-০৪-২০২৬ ১১:৫০:০৯ অপরাহ্ন
সামছুল ইসলাম সরদার ::
হাওর-বাওর, নদী-নালা বেষ্টিত ভাটি অঞ্চলের দিরাই উপজেলা এক ফসলি বৈশাখী ধান বা বোরো ধানের জন্য সুপরিচিত। ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস, যার মধ্যে অন্তত ৯০ শতাংশ মানুষের জীবিকা নির্ভর করে বোরো ধানের ওপর।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছোট-বড় ৩৯টি হাওরে ৩০ হাজার ১৭৮ হেক্টর জমিতে দেশি-বিদেশি জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৭ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলার বরাম ও চাপতি হাওর ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ হাওরের ধান ইতোমধ্যে পাকতে শুরু করেছে। হাওরপাড়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুম অনুযায়ী বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কিছু নি¤œাঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারণে আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
কৃষকরা জানান, “এখন আকাশে মেঘ দেখলেই আমাদের মনে ভয় লাগে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কখন কী হয়, সেই চিন্তায় আছি। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সপ্তাহের মধ্যে সব হাওরের ধান পেকে যাবে।”
তারা আরও জানান, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে, যদি আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী বলেন, “আমরা সার্বক্ষণিক হাওরের পরিস্থিতি মনিটরিং করছি। সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। অধিকাংশ হাওরের ধান ইতোমধ্যে পাকার পর্যায়ে রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত ধান কাটার উপযুক্ত হয়ে উঠবে।”
তিনি আরও জানান, ধান কাটার জন্য উপজেলায় নিজস্ব মালিকানায় ৭০টি এবং ভাড়ায় ৪০টি হারভেস্টার মেশিন প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিকরাও ইতোমধ্যে আসতে শুরু করেছেন।
এদিকে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জাহানপুর হাওরে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটা উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জীব সরকার এ উদ্বোধন করবেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দিরাইয়ের একমাত্র বৈশাখী ফসল সফলভাবে ঘরে তোলা সম্ভব হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দিরাই প্রতিনিধি